রোজদিন ডেস্ক : ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম বাংলায় আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারের সমালোচনায় সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তারই পালটা এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, এখনও ‘এখনও জঙ্গি গ্রেপ্তার নয় কেন?’ মমতা বলেন, ‘এত বড় বড় কথা বলেন। সেনাকে স্যালুট করতে আসবেন ভেবেছিলাম। সিকিমে তো গেলেনই না। ভয় পান নাকি? বিদেশে তো এত ঘুরতেন। প্রচার হওয়া উচিত সেনার। এখনও জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করতে পারেননি কেন? সব দেখানোর জন্য।’
প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে মমতার মন্তব্য, ‘উনি আগে নিজেকে চা-ওয়ালা বলতেন। পরে বললেন, পাহারাদার! আর এখন সিঁদুর বেচতে এসেছেন?’ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বারবার প্রধানমন্ত্রীকে ‘বন্ধু’ বলেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘এত বড় নেতা আপনি, আমেরিকা বললেই চুপ হয়ে যান!’ ‘বাংলা নিরাপদ বলে আপনি ঠিক নির্বাচনের আগে এখানে আসেন। আসেন বাংলার মানুষকে ভুল বোঝাতে, কুৎসা রটাতে, ষড়যন্ত্র করতে। মণিপুরে গেলেন না কেন? আপনার তো আগে ওখানে যাওয়া উচিত ছিল।’ প্রশ্ন মমতার।
অন্যদিকে, এদিন ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়নি। পাশাপাশি মোদিকে বলতে শোনা যায়, ‘সিঁদুর খেলা হয় যেখানে, সেই মাটিতে এসেছি। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের পরাক্রমের চর্চা হওয়া প্রয়োজন। জঙ্গি হামলার পর বাংলার মানুষেরও ক্ষোভ ছিল। আপনাদের ক্ষোভকে আমি গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের সেনা ওদের সিঁদুরের শক্তি বুঝিয়ে দিয়েছে। আমরা জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছি, যেটা পাকিস্তান কল্পনাও করতে পারেনি।’ পহেলগাঁওয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় যে রাগ হয়েছিল, সেই রাগই আমাদের শক্তি জুগিয়েছে। জঙ্গিরা আমাদের বোনেদের-মায়েদের সিঁদুর মোছার চেষ্টা করেছিল। আমরা দেখিয়েছি সিঁদুর মুছতে এলে কি হয়। আমরা জঙ্গিদের ঠিকানা গুঁড়িয়ে দিয়েছি।’

Be the first to comment