কংগ্রেস ছেড়ে আসা শংকর মালাকারকে রাজ্যের সহ সভাপতি, নওশাদের তুতোভাই কাসেমকে রাজ্য সম্পাদক করল তৃণমূল

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- জেলা সভাপতি হওয়ার জল্পনা আপাতত খারিজ। সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শংকর মালাকারকে দলের রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি করল তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে শংকর মালাকার তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি হতে পারেন বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল তা আপাতত আর থাকল না। দার্জিলিং জেলা থেকে এর আগে অলোক চক্রবর্তীকে রাজ্য কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। এবার সহ সভাপতি হয়ে রাজ্য কমিটিতে শংকর মালাকার জায়গা পাওয়ায় জেলায় সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে দল।


প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সমতলের সভাপতি ছিলেন শংকরবাবু, এছাড়াও অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সদস্যও ছিলেন। ২ বারের বিধায়ক শংকর মালাকার জেলার রাজনীতিতে দক্ষ সংগঠক হিসেবেই পরিচিত। তৃণমূল এহেন শংকর মালাকারকে দলে নেওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন বড় কোনও পদে শংকর মালাকারকে বসানো হতে পারে। যেহেতু সদ্য হয়ে যাওয়া রদবদলে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি কে হবেন তা জানানো হয়নি। প্রায় সব জেলার ক্ষেত্রেই নয়া সভাপতি ঘোষণা করা হলেও, দার্জিলিং জেলা সমতলের ক্ষেত্রে তা পরে ঘোষণা করা হবে বলা হয়। এখনও পাপিয়া ঘোষই এই দায়িত্বে রয়েছেন। প্রবীণ রাজনীতিক শংকর মালাকার তৃণমূলে আসায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছিলেন তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সমতলের সভাপতির দায়িত্ব পেতে পারেন শংকর। কিন্তু দল তাঁকে সহ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা আপাতত আর নেই। তবে শংকর মালাকারকে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা থেকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলেই তাঁর অনুগামীরা মনে করছেন। যদিও এনিয়ে শংকর মালাকারের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
অন্যদিকে, চলতি বছর ১৮ মার্চ। পার্ক সার্কাস ময়দানে জমজমাট ইফতার পার্টি। সেই ইফতার পার্টিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক সারিতে বসে রয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকির তুতোভাই কাসেম সিদ্দিকি এবং নাজিমুদ্দিন হোসেন। এই ছবি দেখে একটা সমীকরণের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন অনেকেই। সেই ইঙ্গিতকে সত্যি প্রমাণিত করে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ করা হল কাসেম সিদ্দিকিকে।
এক সময় ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে গ্রেপ্তার করেছিল রাজ্য পুলিশ। দাদার গ্রেপ্তারিতে কার্যত ফুঁসে উঠেছিলেন কাসেম। গোটা ঘটনার জন্য দায়ী করেছিলেন রাজ্যের সরকারকে। কিন্তু সেসব এখন অতীত। সেই কাসেমই আজ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক! কীভাবে বদলে গেল পুরো ছবিটা, একটু বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে। চলতি বছর পার্ক সার্কাস ময়দানে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছিল কলকাতা পুরসভা। সেই পার্টিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে একই সারিতে বসেছিলেন কাসেম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফিরদাহ হাকিমের বাড়ির ইফতারে ফের দেখা যায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে রয়েছেন কাসেম। তখন অনেকেই অনুমান করেছিল ভবিষ্যতে অন্যকিছু হতে চলেছে

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*