রোজদিন ডেস্ক : বিজেপির (BJP) দুই জনপ্রতিনিধির ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণের দায় ওই দলেরই ওপর চাপালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্লাবিত ওই এলাকায় ত্রাণ দিতে গিয়ে বিজেপির সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শংকর ঘোষ আক্রান্ত হন। যা নিয়ে তোলপাড় ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাগযুদ্ধও চলে। টিএমসি ও বিজেপির পারস্পরিক চাপান-উতোরে উত্তপ্ত হয় রাজনীতির অঙ্গন। দুর্গত উত্তর বংগের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে আজ কলকাতা ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তিনি জানান, ওই এলাকায় বিজেপিরই প্রাধান্য। কিন্তু নির্বাচনে জেতার পর ওঁদের কেউ ওখানে যাননি। স্থানীয় মানুষ বন্যা, সাম্প্রদায়িক ঘটনা ইত্যাদিতে ক্ষুব্ধ। হঠাৎ প্লাবনের পর ওঁরা যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের জনপ্রতিনিধিদের ওপর চড়াও হওয়া সেই ক্ষোভের প্রতিফলন। এতে তাঁর কি ভুল বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপির ওপর দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সেদিন ওঁরা একসঙ্গে অনেক গাড়ি নিয়ে গেছিলেন। একেকজন ৩০/৪০ টি গাড়ি নিয়ে যান।
এই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, কোথাও সাম্প্রদায়িক ঘটনা বা বিপর্যয় হলে কারও যাওয়া ঠিক নয়। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে রাজনীতি করেন না বলে জানিয়ে দেন।
উত্তরবঙ্গের এই বিপর্যয় ভুটান থেকে আসা জলে হয়েছে বলে আজও ফের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সারা দেশেই বেশি বৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে বলেন, উত্তরাখন্ডেও কত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে। উত্তরবঙ্গে সেতু ভেঙে বিপর্যয়ের যে কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আজ ফের তা নস্যাৎ করেন।
দৃঢ়ভাবে বলেন, এটা গুজরাট না। সেতু ভেঙে কোন মৃত্যু হয়নি। ওখানে নতুন সেতুর কাজও শুরু হয়েছে। দিন পনেরর মধ্যে নতুন সেতু হয়ে যাবে।
রাজ্যের বিপর্যয়ে কেন্দ্র কোন সহায়তা করেনি বলে আজও তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তিনি।
নাগরাকাটায় আক্রান্ত রক্তাক্ত খগেন মুর্মুকে টিভি-র পর্দা, ছবিতে দেখে শিউরে উঠেছেন বহু মানুষ। আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খগেন মুর্মুর কানে চোট লেগেছে। উনি ডায়েবেটিকের রোগী। সারতে একটু সময় লাগছে। অতীতে তিনি নিজে কতবার আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এর আগের (বিধানসভা নির্বাচন) নির্বাচনে তাঁর পায়ে চোট লেগেছিল। তারও আগে তিনি অনেক মারধোর খেয়েছেন। এরা (পড়ুন বিজেপি) তাঁকে শিক্ষা দেবে? কেন পুলিশকে না জানিয়ে খগেন মুর্মুরা গেছিলেন, পাল্টা প্রশ্ন তোলেন।
দুই জনপ্রতিনিধির ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর মুখ্যমন্ত্রীর তাঁদের ওপর পালটা চাপ সৃষ্টি করায় ক্ষোভে ফুঁসছে গেরুয়া শিবিরও। তাঁরা এর উচিত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আজ কলকাতা ফেরার আগে উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধস ও বন্যার্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল রাত থেকে প্রায় ৪০০টি ত্রাণ সামগ্রীর ব্যাগ তৈরি হয়েছে। আজ ভোর থেকে তা পাঠানো হচ্ছে। অনেক জায়গায় তা দেওয়াও হয়েছে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন। তিনি জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বাকি বিষয় দেখবেন। তিনি নিজে কয়েকদিন পর আবার ওখানে যাবেন বলে জানান।
যত দ্রুত সম্ভব দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

Be the first to comment