বকেয়া বেতনের দাবিতে জেলা সদর হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের ধর্না অস্থায়ী কর্মীদের

Spread the love

রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর : দরপত্র সংক্রান্ত জটিলতার জেরে মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে কৃষ্ণনগর জেলা সদর হাসপাতালের সুপারের দফতরের সামনে অনির্দিষ্টকালের ধর্নায় বসেছেন অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁদের অভিযোগ, জেলার স্বাস্থ্য দফতরের গাফিলতির কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রাপ্য টাকা না মেটানো পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মীরা।

শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে ধর্না দেওয়ার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনজন মহিলা অস্থায়ী কর্মী। তাঁদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও কবে বকেয়া বেতন মিটবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি।

জানা গিয়েছে, শক্তিনগর ও সদর—দু’টি ক্যাম্পাস মিলিয়ে জেলা হাসপাতালে নিরাপত্তা, সাফাইকর্মী থেকে শুরু করে অপারেশন থিয়েটারের সহায়ক কর্মী হিসেবে বহু অস্থায়ী কর্মী কাজ করেন। সাধারণত দরপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থাকে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে সংস্থা বদলালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগের কর্মীদেরই বহাল রাখা হয়।

২০২৪ সালের ৮ মার্চ একটি ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সেই সংস্থার চুক্তি বাতিল হয়। কিন্তু নতুন কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব না দেওয়ায় কর্মী সঙ্কট দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সুপার ওই কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান এবং বেতনের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অভিযোগ, সুপারের কথায় কাজ চালিয়ে গেলেও কয়েক মাস ধরে কর্মীরা বেতন পাননি। তাঁদের মাসিক বেতন ৮,৯০০ টাকা, সঙ্গে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ ১,৮০০ টাকা দেওয়ার কথা।

ধর্নায় অংশ নেওয়া অস্থায়ী কর্মী কুণাল শেখ বলেন,
“ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত নতুন সংস্থা নিয়োগ হওয়ার আগে আমরা সুপারের কথামতোই কাজ করেছি। এই পাঁচ মাসে একবার মাত্র ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি বেতন আজও পাইনি।”

আর এক অস্থায়ী কর্মী আকাশ মণ্ডল জানান,
“১১ জুলাই নতুন একটি সংস্থা দায়িত্ব নেয় এবং তারা ২৫ অগস্ট পর্যন্ত কাজ করে বেতন মিটিয়ে দেয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুরনো সংস্থাকে ফের দায়িত্ব দেওয়া হলে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৩১ অক্টোবরের পর থেকে আবার সুপারের কথায় কাজ করছি। আগের পাঁচ মাসের বেতন তো পেলামই না, নভেম্বর মাসের বেতনও পাইনি। তিন দিনের মধ্যেই ডিসেম্বরের বেতন দেওয়ার সময় চলে আসবে। মাসের পর মাস বিনা বেতনে আর সংসার চালানো যাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে জেলা সদর হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত সরকার বলেন,
“ওই সময় কর্মীর খুব প্রয়োজন ছিল। স্বাস্থ্য ভবনের অনুমতি নিয়েই তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ফাইল পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া যাবে।”

তবে আশ্বাসে আর ভরসা রাখতে রাজি নন আন্দোলনরত কর্মীরা। তাঁদের সাফ কথা—বকেয়া টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ধর্না চলবেই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*