রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- টানা তিনদিনের জীবন মরনের লড়াই! শেষরক্ষা হল না। গুরুতর সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালেই মৃত্যু হল ওড়িশার বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজের নির্যাতিতা ছাত্রীর! সূত্রের খবর, গত সোমবার রাতেই মৃত্যু হয় নির্যাতিতার। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানান হয়েছে, ছাত্রীকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করা হয়। যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার সমস্ত কিছুই পালন করা হয়েছে। তবে যেহেতু শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে। তাই শত চেষ্টা করেও তাঁকে আর বাঁচান সম্ভব হল না।’
বালেশ্বরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়েছে ওড়িশা সহ গোটা দেশ। নিন্দা ও চরম শাস্তির দাবীতে সরব হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলিও। আগামী ১৭ জুলাই ওড়িশা বনধের ডাক দিল কংগ্রেস। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
জাতীয় মহিলা কমিশন, সংবাদমাধ্যমের এই ঘটনার পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তুলে বলা হয় যে,
কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন প্রশাসন একজন নারীকে নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ! ওড়িশায়, একজন ছাত্রীকে তার ডিপার্টমেন্টের প্রধান কর্মকর্তা সমীর সাহু ক্রমাগত যৌন হেনস্থা করেছে, এবং ছাত্রীর শিক্ষার ভবিষ্যতকে নষ্ট করার হুমকি দিয়েছিলেন, ভয় এবং অসহায় অবস্থার কারণে, সে নিজেকে আগুনে পুড়িয়ে মারার মতো ভয়াবহ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
৩০ জুন মেয়েটির তরফে একটি অভিযোগ দায়ের করার পরেও এবং ৯ জুলাইয়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি অভিযুক্তকে বরখাস্ত করেনি। তদন্ত চলাকালীন ক্যাম্পাসে তার সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার অব্যাহত ছিল।দুর্ভাগ্যবশত, মেয়েটি এখন মারা গেছেন।
জাতীয় মহিলা কমিশন এখন কেন নীরব? গোদি মিডিয়া কেন এটিকে প্রাইম-টাইম বিতর্কে পরিণত করছে না? এটি কি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে ঘটেছে বলে?
এদিকে ওড়িশার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস-সহ মোট ৮টি দল আগামী ১৭ জুলাই ওড়িশা বনধের ডাক দিয়েছে। সিপিআই (এম) নেতা সুরেশ পানিগ্রাহী বলেছেন, “সম্মিলিত বিরোধী দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ১৭ জুলাই ওড়িশা বনধ থাকবে।”

Be the first to comment