রোজদিন ডেস্ক : নদীয়া জেলার সদর শহর কৃষ্ণনগরে আজ বিকেল থেকেই জমে উঠবে উৎসবের আবহ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত হতে চলেছে এ বছরের দুর্গা কার্নিভাল। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজও এই শোভাযাত্রা সাজতে চলেছে আলোর রোশনাই, ঢাকের বাজনা আর রঙিন প্রতিমা শোভাযাত্রায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এ বছর মোট ২১টি পূজা কমিটি এই কার্নিভালে অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর শহরেরই ১৫টি পূজা থাকছে। পাশাপাশি ভীমপুর, চাপড়া, ধুবুলিয়া, নবদ্বীপ এবং কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছে আরও ৬টি পূজা কমিটি। ফলে শুধু কৃষ্ণনগর নয়, গোটা জেলার বিভিন্ন পূজার প্রতিমা আজ একত্রিত হতে চলেছে একই মঞ্চে।
তবে এবছর কার্নিভালের রুটে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত বছর গভমেন্ট কলেজ ময়দান থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে এভি স্কুল মোড়, পোস্ট অফিস মোড় ঘুরে কদমতলা ঘাট পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেই সময় যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল, এমনকি প্রতিমা শোভাযাত্রা সামলাতেও বেগ পেতে হয়েছিল। তাই এ বছর সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এবছর শোভাযাত্রা শুরু হবে গভর্নমেন্ট কলেজ ময়দান থেকে। সেখান থেকে সদরের মোড় হয়ে পোস্ট অফিস মোড় ঘুরে কদমতলা ঘাটে পৌঁছবে প্রতিমাগুলি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ বাহিনী। যানবাহন চলাচলের জন্য বিকেল থেকে বিকল্প রুট ঠিক করা হয়েছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পথের দু’পাশে আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।

এই কার্নিভালের মূল লক্ষ্য শুধু প্রতিমা বিসর্জন নয়, বরং একসাথে জেলার বিভিন্ন পূজার রূপ দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা। প্রতিটি পূজা কমিটি তাদের নিজস্ব প্রতিমা, আলোকসজ্জা ও থিমের মাধ্যমে শহরের মানুষকে শেষবারের মতো মাতিয়ে তুলতে প্রস্তুত।
কৃষ্ণনগর শহরে আজ তাই উৎসবের আবহ তুঙ্গে। ঢাক, ধুনুচি, বাজনা আর ভিড়ের মধ্যে দিয়ে নদীয়া জেলা দুর্গা কার্নিভাল আজও প্রমাণ করবে, দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় নয়—বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলাও বটে।
ছবি : গত বছরের

Be the first to comment