রাজ্যে এসে দুর্নীতি, শিল্প নিয়ে তৃণমূলকে তোপ রাহুল গান্ধীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :
রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি, দুর্নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলকে তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। ভিড়ে ঠাসা জনসভায় তিনি আজ বলেন, তৃণমূল ঠিকমত কাজ করলে রাজ্যে বিজেপিকে দেখাই যেত না।
প্রধানমন্ত্রী যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, এখানকার মুখ্যমন্ত্রীও কম যান না বলে তিনি মন্তব্য করেন। কেন্দ্র ও রাজ্যকে বিঁধে বলেন, এখানে কেন্দ্রও টাকা দেয় না। রাজ্যও কিছু করে না।
এখানে টিএমসি-র আমলে সব শিল্পই বন্ধ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, আগে এই পশ্চিমবঙ্গ শিল্পের কেন্দ্র ছিল। প্রথমে বামপন্থীরা, এরপর মমতা ব্যানার্জি এখানে শিল্পকে পুরো ধ্বংস করে দিয়েছেন। মহিলাদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আর জি করে তরণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ, হত্যার কথা বলেন। এখানে তৃণমূলের গুন্ডারা যা চায়, তাই করে বলে তিনি তোপ দাগেন। বলেন, এই সরকারের কোন দায়বদ্ধতা নেই। বিজেপি ও তৃণমূল উভয়েই হিংসা ছড়ায়। কংগ্রেস হিংসার বিরুদ্ধে জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা কখনও হিংসা ছড়ান না। তাঁরা জাতপাত ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করেন না, অশান্তি করেন না।

রায়গঞ্জে তাঁর প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সিকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। বলেন, উনি থাকলে এখানে ওঁরই নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার হোত। মঞ্চে তখন প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির স্ত্রী দীপা দাসমুন্সি সহ বিশিষ্ট নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
আজ বি আর আম্বেদকরের জন্মদিনে মঞ্চে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান রাহুল গান্ধী। এরপর সংবিধান নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপিকে।

টিএমসির কাজ বাংলায় বেরোজগারি বাড়ানো, কিছু কাজ করতে হলে টিএমসির গুন্ডাদের থেকে কাজ করাতে হয়। টিএমসির সিন্ডিকেটের সমালোচনা করলেন রাহুল গান্ধী। মোদি ভ্রষ্ট। মমতা ভ্রষ্ট নয়? সারদা, রোজভ্যালির ফায়দা পায় টিএমসি।

রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে রাহুল গান্ধী বলেন, গত নির্বাচনে এখানে রোজগারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল টিএমসি। কিন্তু ওদের কাজ শুধু সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, বেরোজগারি। এখানে ৮৪ লক্ষ জন বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।

বিজেপি জাতীয় স্তরে হিংসা ছড়ায়, রাজ্যস্তরে টিএমসি। তৃণমূল বিজেপিকে রুখতে পারবে না। একমাত্র কংগ্রেস পারে।

মোদি জানে তৃণমূল বিজেপিকে হঠাতে পারবে না। কংগ্রেস সেটা পারে। আপনারা বাংলার জনতা, ভয় কিসের? আপনারা ইংরেজদের তাড়িয়েছেন।

রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, এখানে কত জনের কাজ হয়েছে? কত শিল্প হয়েছে? টিএমসি-র অস্বস্তি বাড়িয়ে
কংগ্রেস নেতা তপন কান্দু হত্যার প্রসঙ্গও তোলেন।
প্রয়াত এ বি এ গণিখানের মৃত্যু দিবসে শ্রদ্ধা জানান।
রাহুল গান্ধীর জনসভা নিয়ে দলীয় কর্মী সমর্থকদের উচ্ছাস উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মত। তা দেখে দৃশ্যত খুশি রাহুল গান্ধী। এখানে তাঁদের সরকার গঠনের জন্য আর্জি জানান। বলেন, তাঁরাই একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ সরকার দিতে পারেন।
আগামীকাল বাংলা শুভ নববর্ষ উপলক্ষে রাজ্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। উপস্থিত বিশাল জনতা তুমুল হর্ষধ্বনি করে তাঁর এই সব বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*