রোজদিন ডেস্ক :
রাজ্যে কেন্দ্রীয় সহায়তা আনতে প্রাক্তন রাজ্য সরকার বাধা দিয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ তোপ দাগেন। বলেন, রাজ্যে আবাস যোজনার জন্য কেন্দ্র ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল। যা ইউপিএ আমলেও হয়নি। রাজ্যে জল জীবন মিশনে ২৭ হাজার কোটি লুঠ করেছে আগের সরকার। তৃণমূলের প্রতিনিধি রাই বলেছেন, এই প্রকল্পে নল গেছে, জল যায়নি।
এক কোটির বেশি পরিবার আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হয়েছেন।
রাজ্যে এক মাসেই ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল বুঝতে পারছে আমজনতা, বললেন মুখ্যমন্ত্রী।আগের সরকার শুধু লুঠ করে গেছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে ওখানকার মানুষদের ফেরত পাঠানো নিয়ে সংসদে প্রস্তাব আনছে, এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নে উত্তর দেননি মুখ্যমন্ত্রী। জানান, এই বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। আর শুধু এই রাজ্য না, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য কয়েকটি রাজ্যের সীমান্তও আছে।
রাজ্যে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দলের রাজ্য সভাপতি অত্যন্ত প্রাজ্ঞ, তাঁর পরামর্শ সরকার নিচ্ছে, এটা ডবল ইঞ্জিন সরকার, সেই মত সরকার চলছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য র সঙ্গে আলোচনা করে, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য রেখে আমরা চলছি।
রাজ্যে বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন জনসাধারণ করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে শিল্পে বিনিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা, নারী সুরক্ষা, সীমান্তে জমি দান ইত্যাদি যে সব কাজ হয়েছে তার উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদকে নিয়ে যে চিঠি দিয়েছেন সেই বিষয়ে প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে যদি কেন্দ্রীয় সংস্থা কোন সহায়তা চায় রাজ্য নিশ্চয়ই দেবে। তবে এই বিষয়ে এখনই তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
রাজ্যে মানুষ ভালবেসে জমি দিচ্ছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন বামফ্রন্টের মত জোর করে জমি দখল বা মমতা ব্যানার্জির মত তালা চাবি দিয়ে রাখার পক্ষে তাঁরা নন। রাজ্যের উন্নয়নে নিজেরাই এখানকার মানুষ জমি দিচ্ছেন। পর্যটনপ্রিয় বঙ্গবাসী অন্য রাজ্যের বিপুল উন্নয়ন দেখে এসে এখানে তা কেন হচ্ছে না জানতে চাইছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই রাজ্যেও উন্নয়ন হচ্ছে, আরও হবে মানুষ তাই চান। রাজ্যে রেলের অনেক কাজ হবে, নতুন রেলপথ-সহ অনেক কাজ হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সিঙ্গুরের জমি এখন রাজ্য সরকারের হাতে নেই বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগের সরকার যা করে গেছে, এখন আলু, পাট ইত্যাদি কিছুই চাষ হয় না। রাজ্য সরকার সিঙ্গুর-সহ রাজ্যে শিল্পায়নে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
হকার নিয়ে প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জোর করে রাস্তা, ফুটপাথ, দখল করা যায় না। নিউ মার্কেট, রাজাবাজারে কেন রাস্তায় মানুষ হাঁটতে পারেনা, মোটর সাইকেল যেতে পারে না তা দেখতে হবে। হকার নিয়ে কেব্দ্রের নির্দিষ্ট আইন আছে, সেই মত ব্যবস্থা হবে।
দুর্গাপুজোয় আগের সরকারের মত তাঁরা অনুদান দেবেন কিনা প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও এই বিষয়ে তাঁরা কিছু ভাবেন নি। তথ্য, সংস্কৃতি দফতর তাঁর হাতে আছে, পরে এই সব ভাববেন। তবে যাদের দরকার নেই তাদের অনুদান দেওয়ার থেকে যাদের দরকার, তাদের তা দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
দীর্ঘ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী র দাবি, তাঁদের সরকার মানবিক, আমজনতার উন্নয়ন, কল্যাণে দায়বদ্ধ, সেই অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন, ভবিষ্যতেও তাই করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার যে সব উন্নয়ন মূলক কাজ করছেন, রাজ্যেও তা রূপায়িত করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।
আজ নিউ টাউনের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লকেট চ্যাটার্জি, শশি অগ্নিহোত্রী, দেবজিৎ সরকার, বিমল শঙ্কর দেব প্রমুখ বিশিষ্ট বিজেপি নেতারা ছিলেন।

Be the first to comment