আরও বিপাকে অনুব্রত! পুলিশকে গালিগালাজের জন্য রাজীব কুমারকে কড়া চিঠি জাতীয় মহিলা কমিশনের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- আরও বিপাকে অনুব্রত মন্ডল। বোলপুর থানার পুলিশ আধিকারিকের মা ও স্ত্রীকে গালিগালাজ কাণ্ডে এবার জাতীয় মহিলা কমিশনের তরফে চিঠি রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে। পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই কাণ্ডে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট, স্টেট্যাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার উল্লেখ। রিপোর্ট সন্তোষজনক না হলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।
বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই অডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয় (অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি রোজদিন)। গালির এমনই বহর, যা কানে শোনা দায়। শুধু আইসি নন, অনুব্রতর এমন ‘সুন্দর বাণী’ থেকে বাদ পড়েননি লিটন হালদারের স্ত্রী ও মা-ও। যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই ঘটনার জল গড়াল দিল্লি অবধি। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে কড়া চিঠি দিল জাতীয় মহিলা কমিশন।
উল্লেখ্য, বোলপুর থানার আইসিকে কদর্য হুমকি দিতে গিয়ে, রাজ্য পুলিশের ডিজির নাম করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। ভাইরাল হয়েছে অডিও ক্লিপের সেই অংশও। এই ঘটনায় এবার ডিজি রাজীব কুমারকেই চিঠি দিল জাতীয় মহিলা কমিশন। চিঠি পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে এবং অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টও জমা দিতে বলল কমিশন।
মহিলাদের, বিশেষত একজন সরকারি আধিকারিকের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এধরনের হুমকি শুধু নৈতিক এবং সামাজিক অপমান নয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা অনুযায়ী গুরুতর ধর্তব্যযোগ্য অপরাধ। এবিষয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার বলেন, “ভাইরাল হওয়া অডিওতে অনুব্রত মণ্ডল একজন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের মা, স্ত্রীর সম্পর্কে যে ভাষা ব্যবহার করছেন, কোনও মহিলা এটা নিতে পারবে বলে মনে হয় না। এটা শুধুমাত্র মেয়েদের কাছে অপমান, লাঞ্ছনা বা অসম্মান নয়। এখানে নিরাপত্তার প্রশ্নও উঠছে, একজন রাজনৈতিক নেতার যদি পুলিশ অফিসারের পরিবারের প্রতি এমন ব্যবহার হয়।”
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, এই প্রেক্ষাপটে ডিজির উদ্দেশ্যে চিঠিতে জাতীয় মহিলা কমিশন লিখেছে, জনমানসে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হওয়া সত্ত্বেও, এবিষয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে যে নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেছে, তাতে কমিশন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এধরনের নিষ্ক্রিয়তা শুধু অপরাধীদের উৎসাহিত করে না, পুলিশ বাহিনীর মনোবলকে তলানিতে পৌঁছে দেয় এবং পুলিশের নিরপেক্ষতা এবং তৎপরতা নিয়ে মানুষের ভরসার জায়গাটা নাড়িয়ে দেয়। চিঠিতে জাতীয় মহিলা কমিশন স্পষ্টই লিখেছে, বিষয়টির ওপর তারা কড়া নজর রাখছে এবং পুলিশ বিষয়টা যতটা গুরুত্ব দাবি করে, ততটাই গুরুত্ব দিয়ে যেন তা দেখা হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*