রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- আমতা থেকে উদ্ধার হওয়া প্রেসারের ওষুধের রিপোর্ট জমা করল ডিরেক্টরেট অফ ড্রাগ কন্ট্রোল। রাজ্যের এই রিপোর্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই প্রেসারের ওষুধ সম্পূর্ণ জাল। উচ্চ-রক্তচাপ জনিত সমস্যায় চিকিৎসকরা যে ওষুধ দিয়ে থাকেন তার অন্যতম হল ‘টেলমা এএম 40’। সেই ওষুধ নিয়েই এতদিন চলছিল কালোবাজারি।

এই ওষুধ সম্পর্কে প্রস্তুতকারী সংস্থাকে চিঠি লিখে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মূল ওষুধের কোন কোন অংশ নকল করা হয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার তরফ থেকে ডিরেক্টরেট অফ ড্রাগ কন্ট্রোল’কে সবটাই জানানো হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপের এর যে ওষুধ জাল করা হয়েছে, তার ব্যাচ নম্বর ০৫২৪০৩৬৭। এই ব্যাচ নম্বরের সঙ্গে আসল ওষুধের ব্যাচ নম্বরের সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাচ নম্বর জাল করা হয়েছিল।
কিন্তু কিউআর কোড স্ক্যান করলে দেখাচ্ছে ‘Could not be Verified’। ওষুধের গায়ে থাকা অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েলে যে নাম লেখা রয়েছে সেখানেও বানান ভুল রয়েছে। এমনকি ইন্ডিয়ান ফার্মাকোপিয়া কমিশন অনুযায়ী, এই ওষুধ গুণগত মানেও উত্তীর্ণ নয়।
ইতিমধ্যেই সর্তকতা দেওয়া হয়েছে হাসপাতালগুলিতে। রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই ওষুধটি হাসপাতালের স্টোরে আসার পর তারা যেন কিউআর কোড স্ক্যান করে। সেখানে সদর্থক হলে তবেই যেন জনসাধারণকে ওষুধটি দেওয়া হয়। পাশাপাশি হোলসেল ও রিটেল চেন যারা এই ওষুধগুলি বিক্রি করেন, তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাপ্লাই চেইন থেকে এই নির্দিষ্ট ব্যাচের ওষুধ যেন কিউআর কোড স্ক্যান করে তবেই বিক্রি করেন।
প্রসঙ্গত, নামী ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার নামে লাগানো ভুয়ো কিউআর কোড। জাল ওষুধের কারবার চলছিল হাওড়ার আমতায়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সেই ওষুধ সরবরাহকারী সংস্থার গোডাউনে হানা দিতেই চমকে যান রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল দফতরের আধিকারিকরা। আমতার মান্না এজেন্সি থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ।
উল্লেখ্য, ড্রাগ কন্ট্রোল দফতর সূত্রের খবর, ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ৩০০টি প্রয়োজনীয় ওষুধের গুণমান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানিগুলিকে ওইসব ওষুধের উপর কিউআর কোড লাগানোর নির্দেশ দেয়। সেই মতো ওষুধ কোম্পানিগুলি তাদের ওষুধের উপর কিউআর কোড লাগিয়ে দেয়। সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি নামী ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার রক্তচাপের ওষুধের কিউআর কোড জাল হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নজরে এলে তারা তা রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলে অভিযোগ জানায়। এরপরই রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা তদন্তে নেমে ওষুধ কোম্পানির অভিযোগের সত্যতা জানতে পারেন। তদন্তে আরও জানা যায়, এই জাল ওষুধ বিহার থেকে আনা হয়েছে এবং আমতার মান্না এজেন্সি নামে একটি ওষুধ সরবরাহকারী সংস্থা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই জাল ওষুধ সরবরাহ করেছে। আর এরপরেই ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা আমতায় ওই এজেন্সির গোডাউনে হানা দিয়ে প্রচুর পরিমাণে জাল ওষুধ উদ্ধার করে এবং সংশ্লিষ্ট মালিককে গ্রেফতারও করা হয়। ওই এজেন্সি ১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ বাজারে সরবরাহ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

Be the first to comment