এই বাজেট অর্থনৈতিক নয় রাজনৈতিক বাজেট বললেন দোলা সেন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- রাজ্যসভায় বাজেট বক্তৃতায় ‘এতো দাম খাবো কি?’ বলে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের এই বাজেট অর্থনৈতিক নয় এটি রাজনৈতিক বাজেট বলে মোদি সরকারকে নিশানা করলেন দোলা সেন।

রাজ্যসভায় বাজেট অধিবেশনের জিরো আওয়ারে বাংলায় বক্তব্য রাখলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। এদিন বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, আয়কর ছাড়া দিয়ে কারানাকারা প্রচার চালাছে কেন্দ্রের সরকার। এরপরই তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ্য করে বলেন ‘দেশে মাত্র ১০.৭৫ শতাংশ মানুষ বছরে ৫ লক্ষ টাকার উপর উপার্জন করেন। তাহলে যাদের এই আয়কর ছাড় নিয়ে এতো নাচনাচি তাহলে তাঁরা মধ্যবিত্ত মানুষ হচ্ছেন’? এরপরই তিনি প্রশ্ন করেন সরকারের কাছে এই ১০ শতাংশ মানুষ ছাড়া দেশের বাদবাকি ৯০ শতাংশ মানুষের কি হবে? যারা মাসে ১ লক্ষ টাকা দুরস্ত ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা আয় করেন তাঁদের জন্য এই বাজেটে কি আছে? এরপর এদিন তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, এর চেয়ে পেট্রোলিয়াম-সহ বিভিন্ন পণ্যের উপর পরক্ষ করের হার কমলে দেশের সকল মানুষের কাছে সেই সুবিধা পৌঁছে যেত। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বাজেটে কোনো কথা নেই। এরপরই তিনি সংসদে প্রশ্ন তোলেন ‘এতো দাম খাবো কি?’
এরপরই তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে বিহারের প্রতিশ্রুতির বন্যা, কিন্তু বাংলার জন্য টু শব্দটিও নেই’। বিহারের উন্নয়নে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই, বিহার ভালো থাকুক। আমরা জানি পরের বার বাংলার জন্য বাজেটে ভালো ভালো কথা থাকবে। কারণ পরেরবার বাংলায় ভোট।’ এরপরই দোলা বলেন, ‘আসলে এই বাজেট অর্থনৈতিক নয় এটি রাজনৈতিক বাজেট।’
এই বাজেটে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ থেকে শুরু করে মহাত্মা গান্ধী কর্ম সংস্থান নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই বলে মোদি সরকারকে খোঁচা দেন তৃণমূলের রাজ্যসভার এই সাংসদ। পাশাপাশি, বাংলায় ১০০ দিনের কাজ থেকে বাড়ি বানানোর আবাসের টাকা সহ বিভিন্ন খাতে কেন্দ্র প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখে দিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে তাও তুলে ধরেন এই বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য থেকে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বাংলা’ এই নাম পরিবর্তনও আটকে রেখেছে এই সরকার। দোলার মতে বাংলাকে বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে কারণ আপকি বার ২০০ পার বলার পরেও, বাংলায় বার বার হার বিজেপি। সেই রাগে বাংলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এরপর তৃণমূলের এই শ্রমিক নেত্রী তথা উচ্চ কক্ষের সাংসদ অভিযোগ করেন কার্যত রাতের অন্ধকারে বাংলা থেকে একটার পর একটা কেন্দ্রের সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়গুলিকে বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে। এছাড়া একমাত্র সরকারি মেট্রো কলকাতা মেট্রো থেকে শুরু করে দেশের একাধিক পরিষেবাকে বেসরকারিকরণ করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এই মোদি সরকার।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*