ভারত বনধ, মিশ্র প্রভাব রাজ্যে

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : কেন্দ্রের শ্রম কোড বাতিল সহ একাধিক দাবিতে আজ সারা দেশে দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটে মিশ্র সাড়া মিলেছে। কেরালায় তা সর্বাত্মক ছিল। বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যেও শিল্প ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে৷ কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক ইতিমধ্যে এই শ্রম কোড চালু করায় ক্ষুব্ধ শ্রমিক সংগঠনগুলি। কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি এই ধর্মঘট সমর্থন করলেও বেঙ্গালুরু-সহ ওই রাজ্যে সরকারের বন্ধ বিরোধী ভূমিকায় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা।

কলকাতা সহ রাজ্যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় পরিবহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে বন্ধের আওতা থেকে বাদ দিয়ে শিল্প ধর্মঘট পালিত হয়।
সিটু, এ আই ইউ টি ইউ সি সহ শ্রমিক সংগঠন গুলির দাবি, রাজ্যে ধর্মঘটে ব্যাপক সাড়া মিলছে। সিটু নেতা জিয়াউল আলম, অনাদি সাহু, এ আই ইউ টি ইউ সি নেতা অশোক দাস প্রমুখ বিশিষ্ট শ্রমিক নেতারা পৃথক ভাবে বলেন, রাজ্যে চা বাগান, চটকল, ব্যাঙ্ক, বীমা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভাল সাড়া মিলেছে। সরকারের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে বহু সরকারি কর্মী ও ধর্মঘটে অংশ নেন বলে অশোক দাসের দাবি। আজ সকালে তিনি, নন্দ পাত্র, শান্তি ঘোষ প্রমুখের নেতৃত্বে কলকাতায় মিছিল বেরোয়। ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচার করায় উত্তরবঙ্গে প্রাণেশ রায়,উকিল ভুঁইমালি,কাকলি মহান্ত কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে অশোক দাস জানান।
অন্যদিকে সিটু নেতা জিয়াউল আলম, অনাদি সাহু প্রমুখ পৃথকভাবে বলেন, সারা দেশে ২৫ কোটির বেশি শ্রমজীবী এই ধর্মঘটে অংশ নেন। রাজ্যে শিল্প ধর্মঘটে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। শ্রমিকরা বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই লড়াই চলবে। তথ্য প্রযুক্তি, গিগ কর্মী, ইঁটভাঁটা, বন্দর, চা-বাগান, চটকল সহ সব ক্ষেত্রের শ্রমিকরাই কম বেশি এতে সামিল হয়েছেন। জিয়াউল আলম বলেন,আমেরিকার কাছে নতজানু হয়ে প্রধানমন্ত্রী আত্মসমর্পণ করে যে বাণিজ্য চুক্তি করেন, তা লজ্জার। দেশের শ্রমিক শ্রেণী তা মানবেন না। রাজ্য সরকার শ্রম কোড মানে না বললেও রাজ্যে শ্রম আইন বলে কিছু নেই। সরকারি কর্মীদের ডিএ বাকি, চটকল, পুরকর্মী ইত্যাদি বহু জায়গায় বিপুল টাকা বকেয়া, এই সরকারের শ্রম কোড মানে না বলার কোন অর্থ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব শ্রমিক নেতাই জানিয়ে দেন তাঁদের দাবি না মানা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন তাঁরা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*