মুম্বইতে খুন হয়েছেন উঠতি মডেল মানসী দীক্ষিত। এই খুনের ঘটনায় বছর উনিশের যুবক মুজাম্মিল সৈয়দকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর পরেই প্রকাশ্যে এসেছে আর এক তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, বছর তিনেক আগে নিজের মাকেও হেনস্থা করেছিল ওই যুবক।
অন্ধেরি ওয়েস্টের মিলাট নগর এলাকায় একটি আবাসনে থাকত মুজাম্মিলের পরিবার। সেখানকার প্রতিবেশী এবং আবাসনের গার্ড পুলিশকে জানিয়েছেন এই কথা। অত্যাচারের মাত্রা এতটাই ছিল যে মাথা ফেটে যায় মুজাম্মিলের মায়ের। প্রতিবেশীরাই জানিয়েছেন, সেই সময় এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে দেননি পরিবারের লোকজন। পুলিশ জানিয়েছে, মুজাম্মিলের বাবা ছিলেন একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। আর মা ছিলেন গৃবধূ। হায়দ্রাবাদে থাকতেন তাঁরা। আর ছুটিতে আসতেন ছেলের কাছে। তবে মুজাম্মিল তাঁদের নিজের সন্তান ছিল না। তাকে দত্তক নিয়েছিলেন ওই দম্পতি। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।
অন্ধেরির ওই আবাসনে বাইশ বছর ধরে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন আটচল্লিশ বছরের জামাল আনসারি। জামাল পুলিশকে জানিয়েছেন, বছর তিনেক আগে মুজাম্মিল অত্যাচার চালিয়েছিল তার মায়ের উপর। মাথা ফেটে গিয়েছিল ওই মহিলার। কিন্তু প্রতিবেশীরা খোঁজ নিতে গেলে তিনি বলেন আলমারিতে ধাক্কা খেয়েই এমনটা হয়েছে। এ দিকে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রগচটা ছিল মুজাম্মিল। প্রায়শই আবাসনের বাচ্চারা যখন খেলত তখন তাদের সঙ্গে ঝগড়া লাগতো মুজাম্মিলের।
পুলিশ জানিয়েছে, কিছুদিন আগে ফেসবুকে মুজাম্মিলের সঙ্গে আলাপ হয় মানসীর। গত সোমবার মুজাম্মিলের বাড়িতে যায় মনসী। সেখানে তাদের মধ্যে বচসা হয়। পুলিশের অনুমান, রাগের মাথায় প্রথমে ভোঁতা কিছু দিয়ে মানসীর মাথার পেছনে আঘাত করে মুজাম্মিল। তারপর গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করা হয় মানসীকে। খুনের পর মানসীর দেহ একটি স্যুটকেসে ভরে ফেলে মুজাম্মিল। এরপর একটি অ্যাপ ক্যাব ডেকে অন্ধেরি থেকে মালাড যায় সে। সেখানেই একটি জঙ্গলে দেহটি ফেলে আসে মুজাম্মিল। ফেরার সময় ক্যাব চালক খালি হাতে রিকশা করে ফিরতে দেখেন মুজাম্মিলকে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশে খবর দেন ক্যাব চালক। এরপর মুজাম্মিলের ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে মুজাম্মিল।
আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী জামাল আনসারি জানিয়েছেন, ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুজাম্মিলকে একটি স্যুটকেস হাতে বেরোতে দেখেন তিনি। তিনি আরও জানিয়েছেন, আবাসনের সামনে থেকেই একটি ক্যাবে ওঠে ওই যুবক। ডিকিতে স্যুটকেস রেখে নিজে বসে সামনের সিটে। তবে আবাসনে মানসীর ঢোকা দেখতে পাননি জামাল। জানিয়েছেন, সম্ভত যে গেটে তাঁর ডিউটি ছিল সেই গেটের বদলে অন্য গেট দিয়ে গেছিলেন মানসী। আপাতত মুজাম্মিলের আবাসনে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Be the first to comment