রোজদিন ডেস্ক : এক সময়ের প্রিয় লাল পতাকা ছেড়ে কংগ্রেসের ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে ধরে দেশ ও রাজ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রসেনজিৎ বসু (Prasenjit Basu)। এর জন্য আন্দোলনে সামিল হতে তিনি সমমনস্ক নাগরিকদের আহবান জানান। আজ কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের হাত থেকে জাতীয় পতাকা গ্রহণ করেন তিনি। দেশ ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তে স্বাধীনতা আন্দোলনের চেতনা পুর্নজাগ্রত করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন। কংগ্রেস শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর পথে নেমে সংবিধান, আমজনতার ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে আকৃষ্ট হয়েই তাঁর এই দলে যোগদান বলে জানান। কেন্দ্রের বিজেপি ও রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস-এর অপশাসন থেকে তিতিবিরক্ত আমজনতাকে জাতীয় দল কংগ্রেসই মুক্তি দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

একদা সিপিএমের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ প্রসেনজিৎ বসুর কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে দলীয় স্তরেও উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সক্রিয় রাজনীতির ময়দান থেকে দীর্ঘ এক দশকের বেশি দূরে থাকা এই তরুণ নেতাকে সাদরে গ্রহণ করতে মধ্য কলকাতার এক হলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভংকর সরকার, কানহাইয়া কুমার, সৈয়দ নাসির হুসেন,গোলাম আহমেদ মীর প্রমুখ বিশিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন কে মজবুত করা, প্রগতিশীল রাজনৈতিক বিকল্প পুর্নগঠন করার উদ্দেশ্যে তিনি শতাব্দী প্রাচীন এই দলে যোগ দিচ্ছেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। আজ তাঁর দলে যোগদান নিয়ে দৃশ্যত খুশি ছিলেন উপস্থিত কংগ্রেস নেতা, সমর্থকরাও।

পরে এক বিবৃতিতে প্রসেনজিৎ বসু কেন্দ্রের শাসক বিজেপি ও রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধুনো করেন। এক দিকে বিজেপি আর এস এস-এর ধর্মীয় মেরুকরণ, বিভাজন নীতি, অন্যদিকে রাজ্যে তৃণমূল শাসনে দুর্নীতি, সমাজ বিরোধীদের সন্ত্রাস ইত্যাদি তাঁকে ব্যথিত করে বলে জানান। রাজ্যে কাজের অভাব, নারী নির্যাতন, শিক্ষা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের অবক্ষয় ইত্যাদি থেকে কংগ্রেসই মুক্তি দিতে পারে বলে মনে করেন।

NRC, CAA, বিহারে SIR, ওয়াকফ আইন, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার ইত্যাদি নানা বিষয়ে বিজেপিকে তোপ দাগেন। আজ শীর্ষ আদালত ওয়াকফ আইনের সব থেকে আপত্তিকর ধারাগুলিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় স্বস্তি ব্যক্ত করেন। সিএএ বিরোধিতায় ৯ জন এখনও বিনা বিচারে গত পাঁচ বছর কারাগারে আছেন বলে ক্ষোভ জানান।
এই সব পরিস্থিতিতে মহাত্মা গান্ধী, নেহরু, আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষ, চিত্তরঞ্জন দাস, ভগত সিং প্রমুখের আদর্শ নিয়ে লক্ষ্যে এগোবার কথা বলেন। একমাত্র কংগ্রেসের পক্ষেই রাজ্যকে মেরুকরণ ও হিংসার পথ থেকে মুক্ত করার সম্ভাবনা। এই দল জাতি, ধর্ম, জাতপাত ইত্যাদির উর্ধে উঠে কাজ করে। বিশেষত রাহুল গান্ধীই যে তাঁর অনুপ্রেরণা মুক্ত কন্ঠে তা স্বীকার করেন। ভারত জোড়ো যাত্রায় তাঁর ভূমিকার প্রশংসায় মুখর হন।

Be the first to comment