রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ধর্মের ভিত্তিতে নয়, সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে প্রাধান্য পাচ্ছে আর্থিক পরিস্থিতি। যাঁরা বলছেন, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ, তাঁরা বিভ্রান্ত করছেন। এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। মঙ্গলবার বিধানসভা অধিবেশনে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি সংরক্ষণ সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনায় একথা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, ”ওবিসি তালিকা নির্ধারণের সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। আর্থিক অনগ্রসর শ্রেণির ভিত্তিতে সার্ভে হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা করে ফেলব।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ”বর্তমানে আমাদের রাজ্যে ১৪০ টি ক্যাটাগরি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ ওবিসি-এ, ৯১ ওবিসি-বি। আরও ৫০ টি ক্যাটাগরির জন্য সার্ভে করার কাজ চলছে। সিপিএমের আমলে কোনও সার্ভে করা হয়নি। আমাদের সময়ে, ২০১২ সাল থেকে এই সার্ভে করা হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন ধরে বিভিন্ন রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে। এবার সেই প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে। তাঁর কথায়, “বিভিন্ন মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস কমিশনের সমীক্ষার উপর ভিত্তি করেই ওবিসি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি সমস্ত তথ্য, নথি বিধানসভায় জমা দিয়েছি। আশা করি, এখন বিভ্রান্তি আর ছড়াবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ১১৩টি শ্রেণি বাদ পড়েছিল এবং সংরক্ষণ ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। সেই সময় এই ১১৩টি-সহ ১১৭টি শ্রেণি আবেদন জমা দিয়েছিল এবং কমিশনের কাজ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। ইতিমধ্যেই কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই আবার ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত, বাকি ৫০টি শ্রেণির সমীক্ষা চলছে। এই সমীক্ষা শেষ হলে তাদের নিয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “যে সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ধর্মের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তির কোনও বিষয় নেই। এই ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণিকেই বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ এই নিয়ে ভুল প্রচার করছে। বলছে, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য সঠিক নয়।”
প্রসঙ্গত, এই ওবিসি তালিকার জন্য একাধিক চাকরির পরীক্ষা আটকে রয়েছে। আটকে ভর্তি প্রক্রিয়া। সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন ওবিসি তালিকায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০১০–এর আগে রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ৬৬টি জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তার মধ্যে দু’টিকে আপাতত বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে খবর। তবে নতুন তালিকায় ৬৪টি গোষ্ঠীর বাইরে নতুন করে আরও ৭৬টি গোষ্ঠীকে সংযোজিত করা হয়। অর্থাৎ রাজ্যের নতুন ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত গোষ্ঠীর সংখ্যা ১৪০।
যদিও এই ওবিসি তালিকা নিয়ে আদালতে ইতিমধ্যেই মামলা চলছে। ২০১০-এর পরে তৃণমূল জমানায় যে ওবিসি তালিকা তৈরি হয়েছিল, সেখানে আগের ৬৬টির সঙ্গে আরও ১১৩টি গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যে ভাবে এই ওবিসি তালিকা তৈরি হয়েছিল, তা বিধি মেনে হয়নি— এই যুক্তিতে তা গত বছর খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে তালিকা তৈরির করতে রাজ্য তিন মাস সময় চায়। তবে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি বিচারাধীন থাকাকালীনই নতুন তালিকায় সিলমোহর দেয় রাজ্য মন্ত্রিসভা।

Be the first to comment