রোজদিন ডেস্ক : এসআইআরের কাজ চলাকালীন রাজ্যের নানা প্রান্তে অভিযোগের ঝড় উঠেছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘক্ষণ টানা দায়িত্ব আর প্রযুক্তিগত জটিলতায় নাজেহাল বহু বুথ লেভেল অফিসার। কোথাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কর্মীরা, কোথাও আবার পরিবারের অভিযোগ— চাপ সামলাতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিচ্ছেন কেউ কেউ। এই পটভূমিতেই সামনে এল সম্পূর্ণ উলটো ছবি। নির্দিষ্ট সময়সীমার অনেক আগেই এসআইআর–এর সমস্ত দায়িত্ব নিখুঁতভাবে শেষ করে কমিশনের খাতায় ১০০–তে ১০০ পেলেন এক বিএলও—ওয়াহিদ আক্রম মণ্ডল। রানাঘাট উত্তর–পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের পার্ট নম্বর ১০১–এর দায়িত্বে ছিলেন বড়চুপরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই বিএলও। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কেবল এনুমারেশন ফর্ম বিলিই নন, ডিজিটাইজেশনের পুরো প্রক্রিয়াটাও শেষ করেছেন তিনি। তাঁর দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমকে সম্মান জানাতে তাঁকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের নির্বাচনী আধিকারিকরা।
হাঁসখালি ব্লকের এক নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ওয়াহিদের দায়িত্বে ছিলেন মোট ৮০৬ জন ভোটার। মাত্র ১৭ দিনের মধ্যেই ফর্ম বিতরণ থেকে ডিজিটাইজেশন পুরো কাজটি সেরে ফেলেছেন তিনি। ওয়াহিদ জানিয়েছেন তাঁর সাফল্যের রহস্য।দু’দিনে ১০০ করে মোট ২০০ ফর্ম হাতে পেয়েছিলাম। প্রথম দু’দিনেই সব ফর্ম বিলি করে দিই,” বললেন তিনি। নিজের নীতি সম্পর্কে ওয়াহিদের সাফ কথা কোনও দিন কাজ ফেলে রাখতাম না। সময় যাই হোক, তা সেরে নিয়ে তবেই বাড়ি ফিরতাম। এত দ্রুত কাজ করলেও প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াননি তিনিও। অ্যাপ সমস্যায় একাধিকবার তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে সেই মুহূর্তেই সুযোগ দেখেছেন তিনি। “অ্যাপ ঠিকঠাক চললে সেই সময়েই দ্রুত কাজ সেরে ফেলতাম,” জানালেন ওয়াহিদ। এদিকে রাজ্যজুড়ে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ ও ডিজিটাইজেশনের অগ্রগতিও বেশ উল্লেখযোগ্য। কমিশন সূত্রে খবর, রবিবার ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৭.৬৪ কোটি ফর্ম বিলি হয়েছে—যা মোট ভোটারের প্রায় ৯৯.৭৫ শতাংশ। ডিজিটাইজেশনের কাজও পৌঁছে গিয়েছে ৪৯.২৬ শতাংশে, সংখ্যায় যা ৩.৭৭ কোটি।

Be the first to comment