রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’, যার নামকরণ করেছে শ্রীলঙ্কা। যদিও সরাসরি বাংলায় এই ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা এখনো পর্যন্ত নেই, তবে এর প্রভাবে রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মূলত গুজরাটের কচ্ছ ও পাকিস্তানের করাচিতে এটি আছড়ে পড়ার কথা থাকলেও, সুন্দরবন উপকূল সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকার ব্লক প্রশাসন ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর দফায় দফায় বৈঠক করেছে। সাগর ব্লকে মাইকিং করে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং পুণ্যার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদী বাঁধ দুর্বল এমন এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের স্কুল ও ফ্লাড সেন্টারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে এবং শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সমস্ত বিভাগকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা মানুষকে সতর্ক করছেন।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কলকাতা, হাওড়া ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। বাকি জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা জারি রয়েছে। শুক্রবার এই জেলাগুলির পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। ৩১ মে পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

Be the first to comment