রোজদিন ডেস্ক : কয়েকদিন আগেই বড়বাজারে হোটেলে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল। তার রেশ ফুরোনর আগেই শুক্রবার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের কারখানায় বিধ্বংসী আগুন। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। আর এরপরই নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুরসভা। এবার পুরসভার তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কলকাতায় আর কোনও রুফটপ রেস্তরাঁ থাকবে না।
অর্থাৎ ছাদের উপর যে রেস্তরাঁ রয়েছে কলকাতায় তা সরিয়ে ফেরতে হবে। তা ভেঙে ফেলতে হবে। তার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়ছে। তার মধ্যে সেগুলি ভেঙে ফেলতে হবে। এই মর্মে খুব শিগগিরই পুর কর্তৃপক্ষ নোটিফিকেশন জারি করবে বলেও জানিয়েছেন মেয়র৷
শুধু রুফটপ রেস্তোরাঁ নয়, ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন কোনও বহুতলেরই ছাদ দখল করে কিছু করা যাবে না অথবা ছাদ বিক্রি করা যাবে না৷ যে কোনও বহুতলের ক্ষেত্রেই ছাদ ‘সবার জন্য’ বলে জানিয়েছেন মেয়র৷ কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং আইন অনুযায়ী ১৭০/৪ ধারায় ছাদ কেউ দখল করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ৷
পুরসভা সূত্রের খবর, আপাতত কলকাতা পুলিশের আওতায় সমস্ত থানার ওসিদের খুঁজে দেখতে হবে কোথায় কোথায় রুফটপ রেস্তরাঁ রয়েছে। সেই তালিকা তুলে দিতে হবে কলকাতার পুরসভার হাতে। এরপর সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেবে কলকাতা পুরসভা। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভা কলকাতা পুলিশ ও দমকল বিভাগের সঙ্গে এনিয়ে বৈঠকও করেন।
এদিকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় রমরমিয়ে চলে এই রুফটপ রেস্তরাঁ। বিভিন্ন হোটেলের উপরে তৈরি হয়েছে এইরকম রেস্তরাঁ। এরফলে হোটেলের মধ্যে আগুন লাগলে ছাদে রেস্তরাঁ থাকলে সেক্ষেত্রে ছাদে যাওয়ার সম্ভবনা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ সেখানে চারদিক ঘিরে রয়েছে রেস্তরাঁ। এর জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মানুষ জনকে সিঁড়ির মধ্যেই বিপদে পড়তে হয়। এবার যাতে বিপদে পড়তে না হয় তাঁর জন্য এবার একেবারে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল কলকাতা পুরসভা।
প্রসঙ্গত, এর আগে বড়বাজারের অগ্নিকাণ্ডের জায়গা পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এভাবে যদি সিলিন্ডার মজুত করে রাখা হয়, আর কোনওভাবে যদি আগুন লেগে যায়, তাহলে তো হাজার হাজার মানুষের প্রাণ চলে যাবে। তিনি বলেছিলেন, রেস্তোরাঁ বা হোটেলগুলির ছাদ আটকে রাখা যাবে না। সেগুলি খোলা রাখতে হবে। আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সেই সময় যাতায়াতের যথাযথ ব্যবস্থা রাখতে হবে। তারপরেই বৃহস্পতিবার ম্যাগমা হাউসের ছ’টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। এবার কলকাতার সমস্ত রুফটপ রেস্তরাঁ বন্ধের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল কলকাতা পুরসভা।

Be the first to comment